November 5, 2026, 5:34 pm

আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সরকার উদ্বিগ্ন নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সরকার উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ ধরনের তৎপরতা আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর কয়েকটি স্থানে রাতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি, মোটরসাইকেলসহ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হাইকোর্টের ফটকের সামনে যারা একটি ককটেল মেরেছিল, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ঘটনায়ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

বাসে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাতে বিভিন্ন স্থানে পার্ক করে রাখা চালক ও হেলপারবিহীন বাস এবং পরিত্যক্ত বাসে অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, ‘তারা কিছু বাস, পরিত্যক্ত বাস এবং যেগুলো চালক ও হেলপারবিহীন অবস্থায় বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং করা থাকে রাতে, সেগুলো টার্গেট করে দু-একটাতে অগ্নিসংযোগ করেছে। এগুলোও আমরা ফাইন্ড আউট করার চেষ্টা করছি সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে। তাদের শনাক্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের এ অপতৎপরতা আগে থেকেই দৃশ্যমান ছিল। এগুলোতে আমরা খুব একটা মনোযোগ দিচ্ছি না।’

ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার বার্তা দিয়েছেন এবং এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মিছিল ও ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা এসেছে। আগামী কয়েক মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা লকডাউন শব্দ শুনেছি, তো এখানে লকডাউন কি দৃশ্যমান হয়েছে? এগুলো জাতি প্রত্যাখ্যান করছে।’

আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেই আওয়ামী শক্তি এক হাজার ৪০০ লোকের প্রাণ নিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, গণহত্যা চালিয়েছে—এটা জাতিসংঘের রিপোর্ট, আমাদের রিপোর্ট অনুসারে সেটা দুই হাজারের বেশি। সেই গণহত্যাকারীরা এখনো জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, ভুল স্বীকার করেনি, উচ্চবাচ্য করছে বিদেশে বসে। তাদের এসব অপতৎপরতায় আমরা মোটেই শঙ্কিত না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই জাতি তাদের কখনো এই দেশে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করবে না। এগুলো অপাংক্তেয়। তারা ডিসেম্বরে ফিরবে বলে, না ফেব্রুয়ারিতে ফিরবে বলে, এগুলোতে আমাদের কোনো মনোযোগ নেই।’

বিরোধী দলগুলোর লংমার্চের সুযোগ আওয়ামী লীগ নিচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে।

লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন দাবি নিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে। এসব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের সুযোগ দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। চট্টগ্রাম এবং ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলে আয়োজিত লংমার্চে কোনো সহিংসতা বা সংঘর্ষ হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাদের কিছু দাবি ছিল, সেই দাবিগুলো নিয়ে তারা লংমার্চ করেছে, করতেই পারে। এটা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, তারা তাদের কর্মসূচি পালন করবে। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে সেই কর্মসূচি পালন করতে পারে, এর সহযোগিতা করা। আমরা করেছি।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছর পরে নির্বাচন হবে বিধি মোতাবেক, নিয়ম মোতাবেক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। তখন জনমত কাদের পক্ষে যায় সেটা তখন দেখা যাবে। এখন এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।’

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে দেশে সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলার ঘটনাকে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার কোনো প্রচেষ্টা কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় যে অংশগ্রহণ, এটা প্রতিবছর একবার হয়ে থাকে, তিনি তাতে যাচ্ছেন। এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। এর সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক নাই।’

বিরোধী দলের লংমার্চের কর্মসূচি আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাদের আরও দুটি লংমার্চের কর্মসূচি রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ বলে সরকার মনে করছে।

আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিরোধী দলের কর্মসূচির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি এগুলো করে আসছে আরও দুই বছর আগে থেকেই। এটা ধারাবাহিকতা। তারা আর বিরোধী দলের কর্মসূচির সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না সেটা আপনারাই খুঁজে বের করুন, আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বিরোধী ও সরকারি দলের সদস্যদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে তাদের পরামর্শও নেওয়া হয়েছে। তার মতে, ওই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত ছিল।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা